সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
ব্যবহারকারীর গোপনতা কি তাহলে এখন শুধুই নামমাত্র? হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটও নজরে জেমিনির
অনলাইন ডেস্ক
অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করছেন? তাহলে আপনি যে কথোপকথন হোয়াটসঅ্যাপে করছেন, সেটা গোপন আছে এমন নিশ্চয়তা আর আপনি দিতে পারবেন না! কারণ গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি–ভিত্তিক জেমিনি চ্যাটবট এখন আপনার অনুমতি ছাড়াই ফোনের সংবেদনশীল তথ্য পর্যন্ত সংগ্রহ করছে—এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও বাদ যাচ্ছে না।
সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে (সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস) প্রকাশিত হয়েছে এমন তথ্য, যা গুগলের ডেটা প্রাইভেসি নীতির বাস্তব অবস্থান নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
গুগলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেমিনি এখন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি অ্যাপ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। অর্থাৎ, আপনি হোয়াটসঅ্যাপে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের যেসব বার্তা পাঠাচ্ছেন বা পাচ্ছেন, সেগুলোও এই চ্যাটবট সংগ্রহ করে রাখতে পারছে। উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হচ্ছে—“বেশি পার্সোনালাইজড” জবাব দেওয়ার সুবিধার্থে এটি করা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া এই পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ কি নৈতিক?
গুগলের ‘জেমিনি অ্যাপস অ্যাকটিভিটি’ নামের ফিচারটির মাধ্যমে ফোনে ইনস্টল করা বিভিন্ন অ্যাপের অ্যাকটিভিটি পর্যবেক্ষণ করে জেমিনি। আপনি যদি সেটিংসে গিয়ে এই অপশন বন্ধও করে দেন, তবুও আপনার ডেটা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে।
অর্থাৎ, আপনি ‘না’ বললেও, জেমিনি ‘হ্যাঁ’ বলেই কাজ চালিয়ে যাবে!
এই বার্তাগুলো বিশ্লেষণ করে জেমিনি চ্যাটে আরও স্মার্ট জবাব, রিকমেন্ডেশন ও অটোমেটেড রিপ্লাই তৈরি করতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপে কেউ যদি আপনাকে মেসেজ করে—“কাল কোথায় দেখা হবে?”, তখন জেমিনি আপনার আগের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে উত্তর তৈরি করে দিতে পারবে।
গুগল এটিকে “সহজ ও সময় বাঁচানোর উপায়” বলছে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীরা বলছেন, এটি “গোপনীয়তার বড়সড় হুমকি”।
যারা চান না, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য এমনভাবে বিশ্লেষিত হোক, তারা চাইলে জেমিনির ‘অ্যাপস অ্যাকটিভিটি’ ফিচারটি বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য যা করতে হবে:
তবে খেয়াল রাখবেন—এই অপশন বন্ধ করলেও বার্তা সংরক্ষিত থাকবে তিন দিন পর্যন্ত।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন হোয়াটসঅ্যাপে আসা বার্তার উত্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেমিনি লিখে দিতে পারবে। তবে এই ফিচারের পেছনে আছে আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথনের সারাংশ বিশ্লেষণ। এটি একদিকে সময় বাঁচাতে সাহায্য করলেও, অন্যদিকে আপনার প্রাইভেট লাইফের অংশ একপ্রকার খুলে দিচ্ছে মেশিনের কাছে।
এত দিন ধরে আমরা ভেবেছিলাম হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ছিল একান্তই ব্যক্তিগত। কিন্তু জেমিনির এই আচরণ আমাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। শুধু স্মার্ট ফিচার নয়, নিরাপদ ব্যবহার এবং ডেটার নিয়ন্ত্রণও এখন সময়ের দাবি।